Advertisements


বাংলার আবহাওয়া- কেন একদিকে গরম আবার অন্যদিকে বৃষ্টিপাত?

বাংলার আবহাওয়া

কেন একদিকে গরম আবার অন্যদিকে বৃষ্টিপাত?

বাংলার আবহাওয়া অনুযায়ী গ্রীষ্মের বৃষ্টিপাত মূলত নির্ভর করে জলীয় বাষ্পের সাপ্লাই, লঘুচাপ এর অক্ষরেখা, বায়ুপ্রবাহের দিক, কনভার্জেন্স, তাপমাত্রা ও জলীয় বাষ্পের সাথে রিলেটেড বিভিন্ন ইন্ডেক্সসহ ভর্টেক্স এর অবস্থানের উপর। ঠিক যেসব স্থানে এসব প্যারামিটার এর আধিক্য হয়, সেখানেই তৈরি হয় বৃষ্টির সম্ভাবনা। কিন্তু বাকি এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও জলীয় বাষ্প এর যোগান ও প্রখর রোদ ঠিকই থাকে।

অথচ জলীয় বাষ্প হিট ইন্ডেক্স বৃদ্ধি করে দেয়, এতে মূল তাপমাত্রা থেকে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনুযায়ী ৫-২০°সে পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হয়। একে ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা দিয়েও প্রকাশ করা যায়। আর মূল রেকর্ডকৃত তাপমাত্রাকে মূলত ড্রাই-বাল্ব তাপমাত্রা বলা হয়। সাধারণত ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা ২০°সে এর উপরে উঠলেই গরমের অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচারও হিট ইন্ডেক্স ন্যায় জলীয় বাষ্পের উপর নির্ভরশীল।


ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার কি?

ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার নির্দেশ করে যে, আমাদের দেহ ঘাম ঝরিয়ে কতটুকু ঠান্ডা হতে পারবে। ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে প্রচন্ড গরম অনুভূত হয় এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পায়। এরপর আরো বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে মানুষ সেখানে টিকে থাকতে পারে না, এতে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়।

বাংলাদেশের  আবহাওয়া কোন দিকে যাচ্ছে?

এবার আসি বর্তমানে বাংলার আবহাওয়া কোথায় কি হচ্ছে সেই দিকে। বর্তমানে ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগসহ দেশের পূর্বাংশের উপর দিয়ে ব্যাপক পরিমাণ জলীয় বাষ্পের যোগান অব্যাহত আছে। এবং প্রথমে উল্লিখিত প্যারামিটার গুলোর বেশিরভাগই ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগ, ঢাকা বিভাগের উত্তরাংশে এবং বাংলাদেশের পূর্বাংশে পাওয়া যাচ্ছে। এতে সেখানে নিয়মিত ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। যে পরিবেশ পরবর্তীতে(৬ তারিখ নাগাদ) দেশের অন্যত্র বিস্তার লাভ করতে পারে।

অন্যদিকে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার পরিবেশ অনুপস্থিত। এতে সেখানে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকছে। এর মধ্যে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকলেও তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকছে(৩৮°সে+), আবার বাকি এলাকায় তাপমাত্রা কম থাকলেও জলীয়বাষ্পের কারণে ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার অনেক বেশি থাকছে (২৫-২৯°সে)।

যেখানে হিট ইনডেক্স পৌঁছাচ্ছে প্রায় ৪০-৫০°সে পর্যন্ত। এতে প্রচন্ড গরমের অনুভূতি দিচ্ছে এবং ঘাম শুকাতে দিচ্ছে না। যা অস্বস্তি বৃদ্ধি করছে। আবার এই অঞ্চলগুলো ছাড়াও যেখানে বৃষ্টিপাত হওয়ার পরিবেশ রয়েছে সেখানে বৃষ্টি হওয়ার আগ পর্যন্ত ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার বেশি থাকার কারণে বেশ ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।

➡ Follow us on Google News feed for daily Latest Updates

আরো দেখুনঃ ধেঁয়ে আসছে বৃষ্টিবলয় জুঁই ৩, তীব্র বজ্রপাত, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা

এই পরিস্থিতি, বৃষ্টি বলয় সারাদেশে বিস্তৃত হওয়া পর্যন্ত প্রায় একই রকম থাকতে পারে। তবে সারাদেশে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও বৃষ্টি বিরতির সময়ে ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে। এবং বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা এবং ভ্যাপসা গরম সাময়িক আরামদায়ক পর্যায়ে চলে আসতে পারে। যদিও এ সময়ে (৫-১৫ মে) খুব কম এলাকাতেই তাপ প্রবাহ(৩৬°সে+) বিদ্যমান থাকতে পারে। মৃদু তাপ প্রবাহের উল্লেখযোগ্য এলাকা সমূহ হলো রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ।

ধন্যবাদ, ©Bangladesh Weather Observation Team- BWOT

Advertisements


Advertisements