
ধেয়ে আসছে দেশের দিকে একই সময়ে তাপ প্রবাহ “দহন” ও আংশিক বৃষ্টি বলয় “ঝংকার”!!
হ্যাঁ একই সময় দেশের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ চলতে পারে ও কিছু এলাকায় বৃষ্টি বলয় চলতে পারে ও কিছু এলাকায় কিছুটা তাপপ্রবাহ ও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি বলয়ের ছোঁয়া লাগতে পারে।
শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ দহন!!
১২ ই এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ “দহন”, এই তাপপ্রবাহ টি চলতে পারে আগামী ২৫ শে এপ্রিল পর্যন্ত।
এই তাপপ্রবাহ সক্রিয় থাকতে পারে খুলনা বিভাগের অনেক এলাকায়, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় ও ঢাকা বিভাগের কিছু এলাকায়। এইসকল এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলতে পারে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬° থেকে ৩৯° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
বেশি আক্রান্ত জেলা গুলো হলো: চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, নড়াইল, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর,পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা, বগুড়া, বরিশাল, পটুয়াখালী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা।
তবে ১৪ তারিখ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মেহেরপুর, রাজশাহী সহ কিছু এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করা যাচ্ছে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাময়িক সময়ের জন্য ৪০-৪১° সেলসিয়াস এর আশেপাশে চলে আসতে পারে।
এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তর দিকের কিছু জেলায় ও ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ীসহ আরো বেশ কিছু এলাকায় এবং বরিশাল বিভাগের বাকি এলাকায় মৃদু/মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে।
তাপপ্রবাহ যুক্ত এলাকায় বৃষ্টি বলয় না আসলেও দু এক দিন আকস্মিকভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যায়
তাপপ্রবাহ দহন এর সম্ভাব্য প্রভাবিত অঞ্চল

ধেঁয়ে আসছে দেশের দিকে আংশিক বৃষ্টি বলয় “ঝংকার” ও তাপ প্রবাহ “দহন”
নোট : এটি একটি আংশিক বৃষ্টি বলয়, মানে এই বৃষ্টি বলয়ে দেশের সকল এলাকায় বৃষ্টি না হয়ে কিছু নির্দিষ্ট এলাকাতে হতে পারে। এবং এই বৃষ্টি বলয়ে দেশের মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ এলাকায় কমবেশি ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। এটি চলতি বছরের ৪র্থ বৃষ্টি বলয়।
সর্বাধিক সক্রিয়ঃ সিলেট বিভাগ
মাঝারি সক্রিয় : ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কিছুকিছু এলাকা
কম সক্রিয় : ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের কিছুকিছু এলাকা
নিষ্ক্রিয়: খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এর অনেক এলাকা
নামঃ বৃষ্টি বলয় “ঝংকার”
টাইপ : আংশিক বৃষ্টি বলয়।
কাভারেজ : দেশের মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ এলাকা।
ধরন : প্রাক মৌসূমী বৃষ্টি বলয়
সময়কাল : ১৩ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে উল্লেখিত স্থানগুলো।
শিলাবৃষ্টি : আছে, বিক্ষিপ্তভাবে
কালবৈশাখী : আছে
বজ্রপাত : মাঝারি থেকে তীব্র
বন্যা : সম্ভাবনা কম,তবে সিলেট বিভাগের হাওরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা হতে পারে।
একটানা বর্ষন : আছে, বেশি সক্রিয় এলাকায় সাময়িক সময়ের জন্য।
সিস্টেম : সম্ভাবনা কম।
ঝড় : এই বৃষ্টি বলয়ে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর পূর্বাঞ্চল সহ অন্যত্র দু-এক জায়গায় বেশ কয়েকটি ৬০-৮০ কিমি/ঘন্টা বেগে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে।
সাগর : উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে শেষ দিকে সামান্য উত্তাল হতে পারে।
পাহাড় ধসঃ এসময় সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকাতে পাহাড় ধ্বসের কিছুটা আশঙ্কা রয়েছে ভারী বর্ষনের কারনে।
নোট : বৃষ্টিবলয় “ঝংকার” চলাকালীন সময়ে দেশের আকাশ অধিকাংশ সময়েই মেঘমুক্ত থাকতে পারে। তবে যখন বৃষ্টি হবে তখন কিছু সময়ের জন্য আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।
বৃষ্টি বলয় ঝংকার এর সময়ে অধিকাংশ বৃষ্টিপাত হতেপারে খন্ডকালীন ও রাত্রীকালীন। শুধুমাত্র সিলেট বিভাগে দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হতে পারে।
*এই বৃষ্টি বলয় চলাকালীন সময়ে দেশের প্রায় ১০-১৫% এলাকায় পানি সেচের চাহিদা পুরন হতে পারে।
বৃষ্টিবলয় ঝংকার চলাকালীন সময়ে দেশের প্রায় ৬০-৭০% এলাকায় তাপপ্রবাহ সক্রিয় থাকতে পারে। তাই তাপপ্রবাহ সক্রিয় স্থানগুলোতে আবহাওয়া বেশ অস্বস্তিকর থাকতে পারে ও বেশ গরম অনুভব হতেপারে। এমনকি যে সকল স্থানে বৃষ্টি বলয় সক্রিয় থাকবে সেখানেও রাতে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকলেও দিনে রোদ উঠলে কিছুটা গরম অনুভব হতেপারে তবে তা সহনীয় পর্যায়ে থাকতে পারে।
“ঝংকার” চলাকালীন সময়ে বেশি সক্রিয় স্থানে রোদের উপস্থিতি কম পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে।
মেঘের অভিমুখ: বেশিরভাগ বৃষ্টিবাহী মেঘের গতিপথ উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হতে পারে। এবং মাঝে মাঝে এলোমেলো গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
বৃষ্টি বলয়ে কোথায় কেমন বৃষ্টি হতে পারে?
আসুন একনজরে দেখেনেই বৃষ্টি বলয় ঝংকার চলাকালীন সময়ে দেশের কোন বিভাগে গড়ে কত মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। ও বৃষ্টি বলয়ের ১৩ দিনে কোন বিভাগে গড়ে কত দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
ঢাকা ৩০ মিলিমিটার, প্রায় ৩ দিনে
খুলনা ২ মিলিমিটার, প্রায় ২ দিনে
বরিশাল ১ মিলিমিটার , প্রায় ১ দিনে
সিলেট ১৫০ মিলিমিটার, প্রায় ৯ দিনে
ময়মনসিংহ ৭০ মিলিমিটার , প্রায় ৫ দিনে
রাজশাহী ৫ মিলিমিটার, প্রায় ২ দিনে
রংপুর ২০ মিলিমিটার, প্রায় ৩ দিনে
চট্টগ্রাম ৫ মিলিমিটার, প্রায় ১ দিনে
আসুন একনজরে দেখে নেই, বৃষ্টি বলয় … চলাকালীন সময়ে আপনার জেলায় গড়ে কত মিলিমিটার বৃষ্টি হতেপারে।
জেলার নাম। বৃষ্টির পরিমান (মিমি)
বরিশাল বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
বরিশাল ১
ভোলা উত্তর ০
ভোলা দক্ষিণ ১
বরগুনা ০
ঝালকাঠি ০
পটুয়াখালী উত্তর ০
পটুয়াখালী দক্ষিণ ০
পিরোজপুর উত্তর ০
পিরোজপুর দক্ষিণ ০
চট্টগ্রাম বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
বান্দরবান উত্তর ০
বান্দরবান দক্ষিণ ০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩০
চাঁদপুর ৫
চট্টগ্রাম উত্তর ০
চট্টগ্রাম দক্ষিণ ০
কুমিল্লা উত্তর ৫
কুমিল্লা দক্ষিণ ১
কক্সবাজার উত্তর ০
কক্সবাজার দক্ষিণ ০
সন্দ্বীপ ০
ফেনী ০
খাগড়াছড়ি উত্তর ১০
খাগড়াছড়ি দক্ষিণ ১
লক্ষ্মীপুর ০
নোয়াখালী উত্তর ০
নোয়াখালী দক্ষিণ ০
রাঙ্গামাটি উত্তর ৫
রাঙ্গামাটি দক্ষিণ ১
ঢাকা বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
ঢাকা ২০
ফরিদপুর ১০
গাজীপুর ৩৫
গোপালগঞ্জ ০
কিশোরগঞ্জ ৮০
মাদারীপুর ৫
মানিকগঞ্জ ১৫
মুন্সিগঞ্জ ১০
নারায়ণগঞ্জ ১০
নরসিংদী ৩০
রাজবাড়ী ১৫
শরীয়তপুর ৫
টাঙ্গাইল ৪০
ময়মনসিংহ বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
জামালপুর ৩০
ময়মনসিংহ উত্তর ৮০
ময়মনসিংহ দক্ষিণ ৫০
নেত্রকোনা ১০০
শেরপুর ৬০
খুলনা বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
বাগেরহাট উত্তর ০
বাগেরহাট দক্ষিণ ০
চুয়াডাঙ্গা ০
যশোর ০
ঝিনাইদহ ৫
খুলনা উত্তর ০
খুলনা দক্ষিণ ০
কুষ্টিয়া ৫
মাগুরা ৫
মেহেরপুর ০
নড়াইল ০
সাতক্ষীরা উত্তর ০
সাতক্ষীরা দক্ষিণ ০
রাজশাহী বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
বগুড়া ১০
জয়পুরহাট ১০
নওগাঁ ২
নাটোর ৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫
পাবনা ২০
রাজশাহী ৫
সিরাজগঞ্জ ২০
রংপুর বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
দিনাজপুর ৫
গাইবান্ধা ২০
কুড়িগ্রাম ৪০
লালমনিরহাট ৩৫
নীলফামারী ৩০
পঞ্চগড় ৩০
রংপুর ২৫
ঠাকুরগাঁও ২
সিলেট বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
হবিগঞ্জ ১০০
মৌলভীবাজার ১৫০
সুনামগঞ্জ ১৮০
সিলেট ২৫০
পার্শ্ববর্তী অঞ্চল (ভারত)
পশ্চিমবঙ্গ
===========
উত্তর ২৪ পরগনা – ০
দক্ষিণ ২৪ পরগনা – ০
দক্ষিণ মধ্য বঙ্গ – ০
কলকাতা – ০
দিঘা – ০
মেদিনীপুর – ০
বাঁকুড়া – ০
পুরুলিয়া – ০
বর্ধমান – ০
আসানসোল – ৫
বহরমপুর – ৫
মালদা – ২
রায়গঞ্জ – ২
ইসলামপুর – ১০
শিলিগুড়ি – ৩০
দার্জিলিং – ৪০
জলপাইগুড়ি – ৩০
কোচবিহার – ৪০
—————————
*এখানে দেওয়া বৃষ্টির পরিমান একটা গড় ধারনা মাত্র, স্থানভেদে এর পরিমান কিছুটা হেরফের হতেপারে। ও দেশের কোন কোন ক্ষুদ্র এলাকায় কিছুটা বেশি বৃষ্টি হতে পারে ও কোন ক্ষুদ্র স্থানে বৃষ্টি অনেক কম হতে পারে।
নোট : প্রাকৃতিক কারনে বৃষ্টি বলয় ঝংকার এর সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তন ও এর শক্তি কিছুটা হ্রাস, বৃদ্ধি বা বিলুপ্ত হতেপারে।
পূর্বাভাস তৈরি : Bangladesh Weather Observation Team Ltd. (BWOT)
[Copyright : বাংলাদেশে BWOT একমাত্র আবহাওয়া সংস্থা যারা বৃষ্টি বলয় নামকরন করে বৃষ্টিবলয়ের পূর্বাভাস করার প্রচলন করে। তাই BWOT ব্যাতিত আর কেউ বৃষ্টি বলয় নামকরণ করে পূর্বাভাস করে বিভ্রান্তি তৈরি করা থেকে বিরত থাকুন]
*DISCLAIMER: এটা শুধুমাত্র আমাদের গবেষণায় পাওয়া তথ্য, কোনো সরকারি পূর্বাভাস বা সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি না এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত অফিসিয়াল পূর্বাভাসের জন্য সবাই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন। এবং এই পূর্বাভাসের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করুন, অথবা তাদের পূর্বাভাস অনুসরণ করুন।
ধন্যবাদ : Bangladesh Weather Observation Team Ltd
আপডেট : ১২ এপ্রিল রাত ১১:৫৫
বৃষ্টিবলয় ঝংকার এর সম্ভাব্য প্রভাবিত অঞ্চল

Advertisements
