Advertisements


০৫/১২/২০২২ তারিখের ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা ও বাংলাদেশ

  • Post category:Educational

আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৯ টা ২ এর দিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভুত হয়। ঢাকায় রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.১ । আল্লাহর অশেষ রহমতে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আজকের ভূমিকম্পের একটা বিশেষত্ব হল এর উৎপত্তিস্থল ।

এক নজরে আজকের ভূমিকম্পঃ
সময়ঃ সকাল ৯ টা বেজে ২ মিনিট ( বাংলাদেশ স্থানীয় সময়)
উৎপত্তিস্থলঃ অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে অবস্থানঃ ১৯.১৪৪ ডিগ্রী উত্তর ও ৮৯.৮৪৩৮ ডিগ্রী পূর্ব ( সূত্রঃ United States Geological Survey-USGS)
স্থানীয় ভাবে অবস্থান পরিচিতিঃ বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিমে খুলনা অঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গের ঠিক নিচে। ঢাকা থেকে ৩২০

কিলোমিটার এবং কোলকাতা থেকে ৪১০ কিলোমিটার দূরে।
রিখটার স্কেলে মাত্রাঃ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর অনুযায়ীঃ ৫.১ ( মাঝারি শক্তিশালী)
ইউএসজিএস অনুযায়ীঃ ৫.২ ( মাঝারি শক্তিশালী)
ইএমএসসি অনুযায়ীঃ ৫.৬ ( মাঝারি শক্তিশালী)
গভীরতাঃ অধিকাংশ মত অনুযায়ী ১০ কি.মি। ( যদিও জার্মান রিসার্চ সেন্টার বলেছে ৫৩ কিলোমিটার)
শক্তিঃ ৪x১০১২ জুল ( 1.1 গিগাওয়াট ঘন্টা, প্রায় ৯৫১ টন টিএনটি ক্ষমতা সম্পন্ন )
পরবর্তী ঝাকুনি তীব্রতাঃ দূর্বল

বিশ্লেষনঃ যেমনটা আমরা জানি, আজকের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিমে খুলনা অঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গের ঠিক নিচে। সাধারণত আমরা যেসব ভূমিকম্প অনুভব করি তা নেপাল, ভূটান এ সৃষ্টি হয়। সাগরেও যেসব ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় তা হয় আন্দামান সাগরে। উত্তরসাগরে ভূমিকম্পের কথা তেমন শোনা যায়না। ১৯৯৯ সালে উত্তর বঙ্গোপসাগরে শেষ ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই অঞ্চলে হটাৎ হটাৎ ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়? কারন হল, উত্তর বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে বড় আকারের ফাটল বা ভূ-চ্যুতির ( fault) অবস্থান পরিবর্তন। এই ধরনের চ্যুতিগুলি টেকটোনিক প্লেটের মত বিস্তৃত না হলেও স্থানীয়ভাবে এর অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়ে। বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানের ঠিক নিচে এবং বাংলাদেশ এর সিলেট জৈন্তাপুর অঞ্চলে এরকম ভূ-চ্যূতি লক্ষ করা যায়। উপসাগরের পূর্ব অংশ ও পশ্চিম অংশের মাঝে এ ধরনের একটা ফল্টরিজ ভূত্তবিদরা অনেক আগে থেকেই আইডেন্টিফাই করেছেন। (বিস্তারিত জানতে এই পেপারটি পড়ুন- https://t.ly/pO-7)

ভূমিকম্প কী ও কেন তা জানতে আমাদের এই লেখাটি পড়তে পারেন ( t.ly/UtMW )।



সুনামি সতর্কতাঃ এই ধরনের ভূমিকম্প থেকে সুনামির আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের মহীসোপানগুলোর গড় গভীরতা ২০০ মিটার এর মত। আর যেখানে ভূমিকম্প হয়েছে সেখানকার গভীরতা মাত্র ১০ মিটার ( কোন কোন হিসেবে ৫৬ মিটার পর্যন্ত)। উপকূলের কাছাকাছি এত স্বল্প গভীরতায় উৎপন্ন আন্দোলন সুনামি তৈরির মত পর্যাপ্ত পানিকে আন্দোলিত করতে পারেনা। তাছাড়া উৎপন্ন আন্দোলন যদি কিছুটা দক্ষিন থেকেও আসে তাও মহীঢাল ও মহীসোপান এই ধরনের আন্দোলনকে আটকে দিতে সক্ষম। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন কোন ভূমিকম্পই আল্লাহর রহমতে সুনামি সৃষ্টি করতে পারবেনা। প্রাকৃতিকভাবেই এ জন্য বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল বিশেষত বাংলাদেশ সুনামি মুক্ত থাকবে আল্লাহর রহমতে।



বাংলাদেশে ভূমিকম্প সতর্কতাঃ বিবিসি এর এক খবরে ( t.ly/2V0h )বলা হয়েছে, প্রতি ৮০০-৯০০ বছর পরপর সাবডাকশন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার এর সূত্রে বিবিসি আরো জানায় , যেহেতু ভূমিকম্পের কারনবসত ময়নামতি অঞ্চলের লোকজন ওই এলাকা ছেড়ে যায় এবং তা প্রায় ৮০০/১০০০ বছর আগে তাই ১০ বছর থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চট্রগ্রাম অঞ্চলে একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। কেননা ভারতীয় ও বর্মী প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্ট শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে যা আজ হোক কাল হোক এক সময়ে বের হবেই – এর কোন বিকল্প নাই।

(c) Bangladesh Weather Observation Team – BWOT

Advertisements


Advertisements